অসদাচরণ: ডিএমপির ইফতার বর্জন | |

অসদাচরণ: ডিএমপির ইফতার বর্জন

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের আয়োজনে ইফতারিতে অংশগ্রহণ করবেননা দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কর্মরত অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদকরা। প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মাধ্যমের প্রায় শতাধিক সাংবাদিক এই প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন। ধারাবাহিকভাবে পুলিশের হাতে অপরাধ বিষয়ক সাংবাদিকদের নির্যাতন ও হয়রানির প্রতিবাদে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

সর্বশেষ ডিবিসি টেলিভিশনের সাংবাদিক আদিত্য আরাফাতকে কর্তব্যকালীন সময়ে ট্রাফিক পুলিশের এসি আশরাফ মহাখালীতে হয়রানী করায় এবং গায়ে হাত দেওয়ার প্রতিবাদে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাংবাদিকরা। এছাড়া শনিবার (১৯ মে) দুপুরে ডিএমপি কার্যালয়ের সামনে ১ বোতল পানি নিয়ে মানববন্ধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার মহাখালী রেলগেটে দুর্ঘটনার সংবাদ কভার করতে গেলে পুলিশের এসি আশরাফ ডিবিসির সাংবাদিক আদিত্য আরাফাতের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার, ধাক্কা দেওয়া এবং ক্যামেরায় পানি ঢেলে দেওয়ার মত কাজ করেন।

ইফতার যারা বর্জন করছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন নাদিয়া শারমীন, দিপন দেওয়ান, রাশেদ নিজাম, ইউ এইচ জিসান, সৈয়দ নয়ন, গোলাম মুজতবা ধ্রুব, মহসিন কবীর, মশিউদ্দিন মাহির, ইমরান আলী, নাঈম জিকো, সাইফুল জুয়েল, হাসান আহমেদ, বাতেন বিপ্লব, ইমরান হোসাইন সুমন, সাব্বির আহমেদ, সাঈদুল ইসলাম,  নাজমুল সাঈদ, সুশান্ত সাহা, আতিকুর রহমান তমাল, জুবায়ের সানী, শহীদুল রাজী, মোস্তাফিজুর রহমান সুমন, লাইজুল ইসলাম, তানভীর খন্দকার, শাহ ইমন, মাইনুল সোহাগ, কামাল হোসেন তালুকদার প্রমুখ।

বাংলাভিশনের ক্রাইম রিপোর্টার দিপন দেওয়ান বলেন, প্রতিনিয়ন কাজ করতে গিয়ে আমরা পুলিশের হাতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছি। এ নিয়ে তাৎক্ষনিকভাবে পুলিশের কর্তা ব্যক্তিরা ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয় না। বরং উল্টো মাঠের কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের নির্যাতনের মাত্রা বাড়ছে। এভাবে তো সহ্য করা যায় না। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার দ্রুত এসব পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আমরা কঠোর প্রক্রিয়ায় প্রতিবাদ জানাবো, যার দায়ভার আইন-শৃংখলা বাহিনীকে নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অতীতের লাঞ্চিত করার ঘটনার একটিরও কোন বিচার হয়নি। বিচারের আশ্বাস দেয়ার নামে পুলিশ এ নিয়ে প্রতারণা করেছে সাংবাদিকদের সাথে। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আমরা দৃশ্যমান বিচার দেখতে চাই।

এছাড়া ইফতার বর্জন করা সাংবাদিকরা বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের মাত্রা কমছেতো না বরং বাড়ছে। বরং দুর্ভাগ্যজনকভাবে ডিএমপি কমিশনার দোষীদের ছায়া দিয়ে চলেছেন কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে। সাংবাদিক এবং সাংবাদিকতার স্বার্থে আমাদের এই অবস্থান।’

এর আগে ২৪ এপ্রিল মঙ্গলবার কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কার্যালয়ের সামনে দুপেুরে মানববন্ধন করে সাংবাদিকরা। মানববন্ধন শেষে ডিএমপি কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সোমবার দুপুরের দিকে নয়াপল্টন এলাকায় বিক্ষোভ করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে বেসরকারি টেলিভিশন বাংলা টিভির সাংবাদিক আরমান কায়সার ও ক্যামেরাপারসন মানিকের ওপর চড়াও হন মতিঝিল জোনের ডিসি আনোয়ার হোসেন।
সংবাদ সংগ্রহের সময় পুলিশের এমন আচরণের প্রতিবাদে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের শতাধিক সাংবাদিক অংশ নেন।