বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশের দাম আকাশ ছোঁয়া | |

বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশের দাম আকাশ ছোঁয়া

চারদিকে চলছে বর্ষ বরণের প্রস্তুতি। বছর ঘুরে আবার দ্বারপ্রান্তে বৈশাখ। হাজারো ছন্দ-কবিতা ও প্রাণের উচ্ছ্বাসে বছর ঘুরে আসে পহেলা বৈশাখ। প্রতি বছর এ দিনকে ঘিরে বাঙ্গালি জাতি আয়োজন করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান। থাকে বিভিন্ন প্রকারের খাবারের ব্যবস্থা। সেসব আয়োজনের মধ্যে একটি সাধারণ উপাদান হল পান্তা-ইলিশ। কেউ ব্যস্ত মঙ্গল শোভাযাত্রা-মেলা ‍আয়োজনে, কেউ খাদ্য-খানায় বৈশাখ বরণে। এই খাদ্য-খানার অন্যতম অনুষঙ্গ পান্তা-ইলিশ। কালক্রমে শহুরে আবহাওয়ায় পান্তা-ইলিশ যেন হয়ে উঠেছে বৈশাখ বরণের অপরিহার্য অংশ।

বৈশাখ এলেই বিক্রেতারা নানা অযুহাতে ইলিশের দাম বাড়িয়ে দেন। বাজারে পর্যাপ্ত মাছ থাকলেও তারা মজুদ করে রাখায় এ দাম বাড়ে। রাজধানীর বাজারে ইলিশের দামে ঊর্ধ্বগতি। এক কেজি ওজনের ইলিশ খুব বেশি পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও সেগুলো বিক্রি হচ্ছে আকাশ ছোঁয়া দামে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর খুচরা বাজারে এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হয় ২ হাজার ৫শ’ থেকে ২ হাজার ৭শ’ টাকায়। যার দাম এক সপ্তাহ আগেও ছিল দেড় হাজার টাকা।

এদিকে ইলিশ রক্ষায় পহেলা বৈশাখে ইলিশ খাওয়ার রেওয়াজ বন্ধের পরামর্শ দিয়েছেন সুধীজনরা। তাদের মতে, বাঙালির নববর্ষের সঙ্গে ইলিশের কোনো যোগসূত্র নেই। এ প্রসঙ্গে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘পহেলা বৈশাখে আমি ইলিশ খাওয়ার বিরুদ্ধে। বাংলা নববর্ষের যে ঐতিহ্য তাতে ইলিশ খাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। এটা একটা বাণিজ্যিক উপকরণ। এদিন কত ধরনের ভর্তা করা যায়, সবজি রান্না করা যায় এসব হতে পারে।’

গতকাল রাজধানীর কাওরানবাজার, নিউমার্কেট ও শান্তিনগর বাজার ঘুরে দেখা যায়, সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় বাজারে ক্রেতা সমাগম বেশি। বৈশাখকে উপলক্ষ করে ইলিশের বাজার রীতিমতো চড়া। ওজন যত বেশি তার দামও আকাশচুম্বী। কাওরানবাজারের ইলিশ বিক্রেতা আজগর বলেন, ‘বৈশাখ এলে ইলিশের চাহিদা বাড়ে। তার কাছে সর্বোচ্চ সাড়ে ৭শ’ থেকে ৮শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ রয়েছে। একটা নিলে ৮শ’ টাকা পড়বে। তবে এক হালি নিলে ৩ হাজার টাকা রাখবো।’ পাশেই আরেক ইলিশ বিক্রেতা বললেন, ‘তার কাছে ১ কেজি ওজনের দু’টি ইলিশ আছে। একদাম সাড়ে ৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া ৭শ’ গ্রাম ওজনের এক হালি ইলিশের দাম পড়বে ২ হাজার ৮শ’ টাকা। তবে ৫শ’ গ্রামের নিচে এক হালি ইলিশের দাম দেড় হাজার টাকা।’

শান্তিনগর ও নিউমার্কেটের বাজারে ইলিশের দাম যেন আরেকটু চড়া। এই বাজারের ইলিশ বিক্রেতা বিপ্লব বলেন, ‘এখানে ভিআইপি ক্রেতা বেশি। তাই দামও একটু চড়া।’ নিউমার্কেটে বাজার করতে আসা ক্রেতা নুরুজ্জামান বলেন, বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশ মাছ কিনতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু সবাই কিনছে তাই কেনা। ব্যবসায়ীরা উপলক্ষ পেলেই দাম বাড়িয়ে দেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘তাজা’ বলে যেসব ইলিশ বিক্রি হচ্ছে তার বেশির ভাগই কয়েক মাস আগে মজুত করা হিমায়িত ইলিশ। বাড়তি লাভের আশায় পয়লা বৈশাখের সপ্তাহখানেক আগে থেকে সেগুলো বাজারে ছাড়া হয়েছে। এ ছাড়া বাজারে আমদানি করা মিয়ানমারের ইলিশও প্রচুর বিক্রি হচ্ছে।

সবজির দাম বেড়েছে :গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারে কোনো কোনো সবজির দাম বেড়েছে। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি পটল ৫০ টাকা, শিম ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, টমেটো ২০ থেকে ২৫ টাকা, করল্লা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, আলু ১৬ থেকে ১৮ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, চিচিঙ্গা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, শশা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, সজনে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পেঁপে ২৫ টাকা, লতি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা ও কাঁচামরিচ ৪০ টাকায় বিক্রি হয়। এ ছাড়া ডাঁটা (৪টা) ১০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপি আকারভেদে ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা ও আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৩০, আদা ৮০ থেকে ১২০ টাকা, রসুন ৯০ থেকে ১১০ টাকা বিক্রি হয়েছে।

স্থিতিশীল রয়েছে ইলিশ ছাড়া অন্যান্য মাছ ও গরু-খাসির মাংসের দাম। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি রুই ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, কাতল ২২০ থেকে ৩০০ টাকা, পাঙ্গাস ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, সিলভার কার্প ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা, শিং ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা ও চিংড়ি ৪৫০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি গরুর মাংস ৪৮০ থেকে ৫শ’ টাকা, খাসির মাংস ৭৫০ টাকা, ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।