পোশাক খাতে যথাযথ মূল্য নিশ্চিতে বাংলাদেশের আহ্বান | |

পোশাক খাতে যথাযথ মূল্য নিশ্চিতে বাংলাদেশের আহ্বান

নেদারল্যান্ডের দি হেগস্থ ‘টিএমসি অ্যাসার ইন্সটিটিউট’ কর্তৃক আয়োজিত ‘রানা প্লাজার পাঁচ বছর– দায়িত্বপূর্ণ গার্মেন্টস সরবরাহ লাইন’ শীর্ষক এক সেমিনারে বাংলাদেশ সরকার এবং তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারীরা নিম্ন আয়ের বা উন্নয়নশীল দেশসমূহ, বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানির ক্ষেত্রে খ্যাতনামা ব্র্যান্ড এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের এখনই যথাযথ মূল্য নিশ্চিতের প্রতি নজর দেয়া প্রয়োজন মর্মে আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, টিএমসি অ্যাসার ইন্সটিটিউট নেদারল্যান্ডের একটি উল্লেখযোগ্য থিংক-ট্যাঙ্ক।
দিনব্যাপী এই সেমিনারে অ্যাকর্ড, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাপারেল ফাউন্ডেশন, নেদারল্যান্ড সরকারের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ এবং গবেষক, সুশীল সমাজ, নেদারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ মুহম্মদ বেলাল, শ্রীলংকায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ, বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এবং সহ-সভাপতি(অর্থ) জনাব মোহাম্মদ নাসির অংশগ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রদূত বেলাল বলেন, ‘রানা প্লাজার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শত শত নিরীহ কর্মী জীবন হারাবার পরে সরকার, ব্যবসায়ী মহল এবং সুশীল সমাজের হাত ধরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তৈরি পোশাক খাতের সরবরাহ লাইনের দায়িত্বশীলতা আলোচনায় কর্মীর আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং জীবনের গল্প যেন ভুলে যাওয়া না হয় সে বিষয়ে তিনি জোর দেন।’
রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহ বাংলাদেশের পোশাক এবং বস্ত্র শিল্পের উত্তরণের উপর আলোকপাত করেন। তৈরি পোশাক শিল্পে ভবন নির্মাণ, নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অন্যান্য বিষয়ে যথেষ্ট উন্নতি অর্জিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ব্র্যান্ড এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের উৎপাদনকারী দেশসমূহ, বাংলাদেশের সরকার এবং ব্যবসায়ীদের পূর্ণ আস্থা অর্জনে যথাযথ আচরণের উপর গুরুত্ব প্রদান করেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মীদের বেতন বাড়ানোর আলোচনার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃত উৎপাদনকারীদের পণ্যের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত বৈশ্বিক সরবরাহ লাইনের টিকে থাকার স্বার্থেই আলোচিত হওয়া উচিত।
বিজিএমইএ’র নেতৃবৃন্দ তৈরি পোশাক খাতের পুনর্গঠনে গৃহীত নানাবিধ পদক্ষেপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ সমূহ, নতুন কারিগরি ব্যবস্থাপনা, মূল্যবোধ, শ্রমিক স্বার্থ রক্ষা, কর্মস্থলের নিরাপত্তা বিধান ইত্যাদি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। বিজিএমইএ সভাপতি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের তিনশর বেশী তৈরি পোশাক কারখানা প্রচুর বিনিয়োগ এবং নতুনত্ব আনয়নের মাধ্যমে লিড সনদ পেতে যাচ্ছে, অথচ বেশীরভাগ কারখানাই ব্র্যান্ড এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া পাচ্ছে না। অন্যান্যদের মধ্যে অ্যাকর্ড এর উপ-পরিচালক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দায়িত্বশীলতার পোশাক শিল্পের সর্বস্তরে বাংলাদেশ যে অগ্রগতি অর্জন করেছে তার ভূয়সী প্রশংসা করেন।