কমনওয়েলথে শেখ হাসিনার প্রশংসায় উচ্ছ্বসিত ট্রুডো | |

কমনওয়েলথে শেখ হাসিনার প্রশংসায় উচ্ছ্বসিত ট্রুডো

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় দৃঢ়তার সঙ্গে নেতৃত্ব দেয়ায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন।

বৃহস্পতিবার ২৫তম কমনওয়েলথভুক্ত দেশের সরকারপ্রধানদের বৈঠকের প্রথম নির্বাহী অধিবেশনে বক্তৃতাকালে এই প্রশংসা করেন।

ট্রুডো বলেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থী সামাল দেয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষ নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন। কমনওয়েলথ নেতাদের অবশ্যই তাকে সমর্থন দিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, কমনওয়েলথ মহাসচিবের রিপোর্ট উপস্থাপনের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে আলোচনার জন্য ফ্লোর উন্মুক্ত করে দেন। জাস্টিন ট্রুডো ফ্লোর নিয়ে শেখ হাসিনা সম্পর্কে এই প্রশংসা করেন।

গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার পর সেনা অভিযানের মুখে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক। এদেরকে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে ফিজিক্যাল অ্যারাঞ্জমেন্ট চু্ক্তি হয়েছে জানুয়ারিতে।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের কাছে আট হাজার ৩২ রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ। এই তালিকা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ যাচাইয়ের পরই প্রত্যাবাসন শুরু হবে। তবে কোন তারিখ থেকে ফেরত পাঠানো শুরু হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

কমনওয়েলথ বৈঠকে ৫৩ দেশের সরকারপ্রধান

ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে বাকিংহাম প্যালেসে দুই দিনব্যাপী ২৫তম কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের বৈঠক (সিএইচওজিএম)-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। কমনওয়েলথ সদস্যভুক্ত ৫৩টি দেশের সরকার প্রধান বৈঠকে অংশগ্রহণ করছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রানি বলেন, কমনওয়েলথ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্থিতিশিলতাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরবে এবং ১৯৪৯ সালে আমার পিতার শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ কাজটি প্রিন্স অব ওয়েলস আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রিন্স চাল্স, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে এবং কমনওয়েলত মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড কিউসি বক্তব্য দেন। গার্ড অব অনার প্রদান এবং সদস্য রাষ্ট্রসমূহের পতাকা বহনের মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়।

বিশেষ পোশাকে সজ্জিত শতাধিক কর্মকর্তা ও সৈন্য ব্যান্ড ও ড্রাম বাজিয়ে গার্ড অব অনান প্রদান করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে কমনওয়েলথ নেতৃবৃন্দ ল্যানকাস্টার হাউজে তিনটি কর্ম অধিবেশনে যোগ দিবেন। কমনওয়েলথ নেতৃবৃন্দ পরে ল্যানকাস্টার হাউজে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা এবং কমনওয়েলত মহাসচিব প্যাট্রিসিয়ার দেয়া আনুষ্ঠানিক সংর্বধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

কমনওয়েলথ নেতারা বিকালে সেন্টস জেম্স প্যালেসে কমনওয়েলথ মহাসচিবের দেয়া অপর এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সম্মেলনে কমনওয়েলথ সদস্য দেশসমূহের লক্ষ্য অর্জনে সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং টেকসইয়ের ওপর বিশেষ মনোযোগ দিবেন।

সম্মেলনে মাল্টার প্রধানমন্ত্রী ড. জোসেফ মাসকাটের কাছ থেকে কমনওয়েলথ চেয়ার ইন অফিস ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে’র কাছে স্থানান্তর হবে। টেরেসা মে ২০২০ সালে অনুষ্ঠেয় ২৬ তম সিএইচওজিএম পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করবেন।

২০১৭ সালের শেষ নাগাদ ২৫তম সিএইচওজিএম অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল। স্বাগতিক দেশ ছিল ভানুয়াতু। কিন্তু প্রাকৃতিক দুযোর্গে দেশটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যে আয়োজন করা হয়।

সিঙ্গাপুরে ১৯৭১ সালে কমনওয়েলথ নেতৃবৃন্দের প্রথম সিএইচওজিএম অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ সিএইচওজিএম অনুষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালে মাল্টায়।