যমুনা সার কারখানায় ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ | |

যমুনা সার কারখানায় ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ

গ্যাস সরবরাহ বন্ধের চিঠি দেওয়ায় দেশের বৃহত্তম দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত এ সার কারখানায় ‘তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি’র গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার সরকারি আদেশ সংক্রান্ত একটি চিঠির প্রেক্ষিতে গতকাল শুক্রবার রাত ১১টা থেকে সার কারখানা কর্তৃপক্ষ উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি’ পেট্টোবাংলার আদেশের কথা উল্লেখ করে গত বৃহস্পতিবার যমুনা সার কারখানা কর্তৃপক্ষকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখবে জানিয়ৈ চিঠি দেয়। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের দেওয়া সেই চিঠিতে চলতি সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে অধিক গ্যাস ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং দেশের গ্যাসভিত্তিক শিল্পখাতে প্রকট গ্যাস সঙ্কট মোকাবেলায় যমুনা সারকারখানা বন্ধ রাখতে বলা হয়।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের ওই চিঠির প্রেক্ষিতে গতকাল শুক্রবার রাত ১১টা থেকে যমুনা সার কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানার উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। কারখানার সকল ইউনিট নিরাপদে বন্ধ করে দেওয়ার পর তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ যমুনা সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছে।

সূত্র আরো জানায়, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পখাতে গ্যাস সংকট মোকাবেলার কারণ দেখিয়ে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ৩১ জানুয়ারি থেকে টানা ১৬ দিন কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখে। ১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকে সার কারখানায় পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে কারখানার সকল ইউনিট চালু করা হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি ভোররাত থেকে কারখানায় ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়। টানা ২০ দিন চালু থাকার পর কারখানাটি ফের গ্যাস সংকটের কারণে ফের বন্ধ হলো।

চলতি মাসে এই সার কারখানা থেকে ইউরিয়া সার বিপণনের চাহিদা রয়েছে ২৪ হাজার মেট্রিক টন। বর্তমানে কারখানায় ইউরিয়া সার মজুদ রয়েছে মাত্র ২ হাজার মেট্রিক টন। এতে করে কারখানার আওতাধীন জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল ও উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলায় চলতি সেচ মওসুমে ইউরিয়া সারের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও কারখানা কর্তৃপক্ষ আমদানিনির্ভর সারের মজুদের কথা উল্লেখ করে সারের কোনো সঙ্কট হবে না বলে জানিয়েছেন।

যমুনা সারকারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবা সুলতানা আজ শনিবার সকালে বলেন, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের চিঠির আলোকেই সারকারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে। কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে তা তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষে ওই চিঠিতে জানায়নি। অর্থাৎ অনির্দিষ্টকালের জন্য হয়তো কারখানা বন্ধ থাকবে।

তিনি আরো বলেন, কারখানা বন্ধ থাকলেও দেশে আমদানিনির্ভর সারের মজুদ থাকায় যমুনা সারকারখানার আওতাধীন জেলাগুলোয় সারের সংকট পড়বে না।