প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়াল বিশ্বব্যাংক | |

প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়াল বিশ্বব্যাংক

প্রতিচ্ছবি ডেস্কঃ চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে দেশজ উৎপাদনে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে বিশ্বব্যাংক। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাটি বলছে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন ও বাণিজ্যে সফল ধারা অব্যাহত থাকলে এবার জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৭ শতাংশ। যদিও এর আগে তারা ৬.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস করেছিল।

বুধবার ওয়াশিংটনে বিশ্ব ব্যাংকের প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ইকোনোমিক প্রসপেক্টস-২০১৮’র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

চলতি অর্থবছরে অবশ্য সরকার প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে ৭.৪ শতাংশ। আর বিশ্বব্যাংক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে সব সময় রক্ষণশীল নীতি নেয়। সংস্থাটি বরাবর যে পূর্বাভাস করে শেষ পর্যন্ত অর্জন হয় তার চেয়ে বেশি।

২০১৬-১৬ অর্থবছরে চূড়ান্ত হিসাবে দেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭.২৮ শতাংশ। তবে অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস ছিল ৬.৪ শতাংশে। আর অর্থবছরের শেষ দিকে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ালেও সেটা ৭ এর বেশি হবে না বলে দাবি করেছিল।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বিনিয়োগ, উৎপাদন ও বাণিজ্যে সফল ধারা অব্যাহত থাকায় ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে বিশ্বায়ন অর্থনীতি ৩ দশমিক ১ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। যেখানে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ২ শতাংশের মতো বৃদ্ধি পেতে পারে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঋণ প্রবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বেড়েছে। বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ঋণের জোগান ১৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৭ শতাংশ হয়েছে। সুদহার কম থাকায় এবং অবকাঠামো উন্নত হওয়ায় বিনিয়োগও বাড়বে বলে মনে করে সংস্থাটি। একইভাবে রপ্তানি আয়ও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরে তারা।

তবে এই অর্জনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের সংকট অতিক্রম করা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি স্থিতিশীল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। বিশেষ করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে।

২০১৭ সালে বিশ্ব ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী সার্কভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ছিল তৃতীয় স্থানে। এতে প্রথম স্থানে ছিল ভারত (৭.৩ শতাংশ) এবং সবচেয়ে কম ছিল আফগানিস্তানে (৩.৪ শতাংশ)।

এদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) প্রবৃদ্ধির যে পূর্বাভাস দিয়েছে, সেটি বিশ্বব্যাংকের চেয়ে বেশি। সম্প্রতি সংস্থাটি তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক ২০১৭’তে বলেছে, এ বছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ।