ইউনাইটেড হাসপাতালের এমডির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা | |

ইউনাইটেড হাসপাতালের এমডির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রতিচ্ছবি রিপোর্টঃ প্রায় সাড়ে ২১ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রহমান খানসহ দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার দুদকের উপ-পরিচালক মুহ. মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে গুলশান থানায় এ মামলা করেন বলে দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচায্য জানান।

মামলার অপর আসামি হলেন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক কমিশনার রহিমা বেগম।

প্রণব বলেন, ইউনাইটেড হাসপাতালের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ২০১১ পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ ২১ কোটি ৪৪ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৩ টাকা পরিশোধ না করে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে।

দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০০৬ সালে রাজধানীর গুলশান-২ আবাসিক এলাকার ৭১ নম্বর রোডের ১৫ নম্বর বাড়ির বেইজমেন্টসহ একটি আটতলা ভবনে কার্যক্রম শুরু করা ‘কন্টিনেন্টাল হাসপাতাল’ পরের বছর মালিকানা ও নাম বদলে ‘ইউনাইটেড হাসপাতাল লিমিটেড’ হয়। কিন্তু ঢাকা সিটি করপোরেশনের তালিকায় এখনও আগের নামই বহাল রয়েছে।

২০০৬ সাল থেকে হাসপাতালটির ত্রৈমাসিক হোল্ডিং ট্যাক্স ৮৮ লাখ ১৫ হাজার ৮৯০ টাকা নির্ধারণ করে ২০০৭ সালের ২৬ অগাস্ট নোটিস দেয় ঢাকা সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা পরিশোধ না করে সিটি করপোরেশনের অ্যাসেসমেন্ট রিভিউ বোর্ডে (এআরবি) আবেদন করে।

সে সময় চার সদস্যের ওই বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন সিটি করপোরেশন ২১ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন কমিশনার এম এ কাইয়ুম। সদস্য হিসেবে ছিলেন কমিশনার রহিমা বেগম, প্রকৌশলী কাজী জহিরুল আজম ও অ্যাভোকেট মালেক মোল্লা।

এজাহারে বলা হয়, এআরবি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও অপর দুইজন সদস্যের অনুপস্থিতিতে রহিমা বেগম এককভাবে ২০০৯ সালে ইউনাইটেড হাসপাতালের ত্রৈমাসিক কর কমিয়ে ৭৪ লাখ ৯৩ হাজার ৫৫০ টাকায় পুনর্নির্ধারণ করেন।

এতে ইউনাইটেড হাসপাতাল লিমিটেডের ত্রৈমাসিক কর ১৩ লাখ ২২ হাজার ৩৪০ টাকা কমে যায়। এরপরও ইউনাইটেড হাসপাতাল কোনো কর পরিশোধ করেনি। করের পরিমাণ না কমালে ২০১১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সিটি করপোরেশন পাওনা হত ২১ কোটি ৪৪ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৩ টাকা।

এজাহারে বলা হয়, সাবেক কমিশনার রহিমা বেগম এবং ইউনাইটেড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রহমান খান পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে ওই টাকা পরিশোধ না করে দণ্ডনীয় অপরাধ করেছেন।